মুক্তগদ্য
বীজ ,মাটি , জল, বায়ু একত্রিত হয়ে নিখাদ সুতোর বিনুনিতে বেড়ে ওঠে একটি সরস রসালো সংবেদনশীল শরীর। গোড়া থেকে যার
আগা অবদি প্রতিটি রোমকুপে অনু পরমানুতে বয়ে চলে জীবন।চামড়া অস্থি প্রতিটি অংশে কথা হর্ষ কখনো বিষন্নতা। মহিরূহ জানান দেয়
কখোন সে বালিকা আবার কখোন সে যুবতী নাকি যুবক। অন্যথায় কখোন সে বাল্যাবস্থায় রয়েছে ,আবার কখোন যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে
পৌঁছালো। ঠিক একটি নিটোল মানুষ এই একেক টি গাছ।
....শিশুর মতো নিরবিচ্ছিন্ন সরল ভোরবেলা আসে , ছলছল কলকল করে কতো
পাখি এসে বসে প্রতিটি পাতা ছুঁয়ে যায় তাদের
আদোর। আদোর খেতে খেতে কখোন সূর্যদেব
মাথার উপর দৃঢ হতে থাকে তা অজানাই থাকে।
গাছ যেন ভুলে যায় হঠাৎ ধ্যান ভঙ্গ হয়, যেমন
করে শিশু বাল্যকাল ছাড়িয়ে শারীরিক পরিবর্তন দেখে কদাচিত থমকে যায়।
এর পর আসে বড় একখানা দুপুর যখন এই মহিরূহ না জানি কর্মজীবন টা বিস্তারিত করে - কিন্ত সেভাবে নাম পায়না।
পথিক আশ্রয় নেয় ছায়ায় আবার যখন চলে যায় তখন গাছের সারি দেখে মোনে লোভ জাগে, যদি কুঠারের আঘাতে কিছু বনরাজি
কাটা যেত তবে ধনের বেশ আগম হতো। আসতে হবে কোন দিন বিশেষ প্রস্ততি নিয়ে।
রাত গাঢ হয় যখন স্নায়ুতন্ত্রে চলে অন্য হিল্লোল,
পা থেকে মগজ অবদি ঠিক মানুষের মতো এঁরাও রোমাঞ্চিত হতে থাকে। জগৎ সংসারের আড়ালে এক অন্য পৃথিবী অন্য এক বৃন্দাবন
তৈরী হয় সেখানে। চাঁদের আলোতে মহিরূহ সারি কি স্পষ্ট কি দীপ্ত।সনসন করে বাতাস বয়ে
যায় ,গাছ গুলির উপর যেন বাঁশি বাজিয়ে দেয়। তারা আনন্দ প্রকাশ করে অঙ্গীকার করে
অন্য এক পৃথিবীর। যেখানে কুঠার নেই , নেই
কোন স্বার্থপর কাঠুরিয়া, শুধুই পাখির কলকাকলি বাতাসের ঢেউ আর ঘন সবুজ বনরাজি। যেখানে গাছের শিকড় বাকল আর
অস্থিসম ডালপালা নির্ভয়, শিশুর মতো মাটির
জঠরে পৌঁছে দেবে মুক্ত স্নায়ু স্রোত।
![]() |
| মধুমিতা মৈত্র লাহিড়ী |

No comments:
Post a Comment