মুক্তগদ্য
জীবনের এই যে এত বাঁকবদল, প্রতিটির মুখেই তো মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল, আশা করেছিলাম আপনি আমার এই দুঃস্বপ্নের দিনগুলি সরিয়ে ও সারিয়ে দিতে আসবেন, কোনো এক হঠাৎ রোববার!
আমার সামান্য ঘরে মলিন ও ধূসর পর্দাগুলি সরিয়ে সূর্যের প্রথম আলো উপহার দেবেন বহু দীর্ঘ বিনিদ্র রাতের পর!
রক্তচাপের দিনে, আপনি আসেননি। এসেছেন বলতে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, এসেছে বলতে আমার মনোচিকিৎসক বন্ধুটি!
নিজের কাছে অস্বীকার করতে পারি না এই চন্দ্রভুক অমাবস্যার দীর্ঘ কালো রাত, বদ্ধ ঘরে ঘুরতে থাকা ভারী শীতল বাতাস আর ধূসর পর্দাগুলি আমায় বিব্রত করেছে, যথেচ্ছ! ভেতর ভেতর অজস্র সেতু ভেঙে পড়তে দেখে আমিও ভয় পেয়েছি কিঞ্চিত!
একদিন উপলব্ধি করলাম, ভেঙে পড়তে চাওয়া মানুষের এক সহজ প্রবণতা, আর ভেঙে পড়তে পারা এক দুর্লভ প্রাপ্তি!
তবুও, সকালে বুক চিতিয়ে বলেছি, আমার নির্মোহতা ও প্রতাশাহীনতার কথা। বলেছি, একা একা জিতে নেবার আশ্চর্য প্রতিজ্ঞার কথা! এসব বলার পরেও কিছু বলতে চাওয়া থাকে। বলতে না পারা থাকে৷ এই বলতে চাওয়া অথচ না পারার উপর জমা হয় বিন্দু বিন্দু অভিমান৷
বিন্দুতে সিন্ধু হয় কী না জানি না, তবুও বিন্দু বিন্দু অভিমান জমে কোনো এক রবিবার, দুপুর থেকে জোর বৃষ্টি হয়!
মা বলে ঈশাণ কোনে মেঘ জমেছিল প্রচুর!
মানুষের ঈশানকোণ কোনদিকে? আমি ঠিক জানি না!
![]() |
| আবির মুখোপাধ্যায় |

No comments:
Post a Comment