মুক্তগদ্য
আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কোন না কোন সময় এমন একজন মানুষ এসেছে বা আসে,তাদের সাথে না চাইতেই হয়তো আমরা জড়িয়ে পড়ি,আঁকড়ে ধরতে চাই,রাতের পর রাত জেগে গল্প করি,অপেক্ষা করি কথা বলার জন্য,কিংবা একটিবার তার আওয়াজ শোনার জন্য ছটফট করি,জাস্ট ভীষণ ভাবে জড়িয়ে পড়ি।
অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করে..
আবার ভালোবাসতে ইচ্ছে করে,অপেক্ষা করতে ভালো লাগে,সাজতে ইচ্ছে করে,চোখে কাজলটা আরেকটু গাঢ় করে পড়তে ইচ্ছে করে,নিজেকে সাজাতে ইচ্ছে,তার পছন্দের রঙের শাড়ী কিংবা কুর্তিতে নিজেকে বারবার আয়নাতে জরিপ করতে ইচ্ছে হয়,কেমন লাগছে নিজেকে,কী বলবে সে আমাকে,যখন আমাকে দেখবে!
এমন অনেক ভাবনার খেয়ায় আমরা ভাসতে থাকি।
অানমনেই অন্যকে ডাকতে গিয়ে তার নাম নিয়ে ফেললে পরক্ষণেই জিভ কেটে নিজের মাথায় দুটো চাটি মেরে 'ধ্যাৎ কী যে আমার হলো' বলে খিলখিলিয়ে হেসে উঠি।
ইচ্ছে করে জ্বরও বাঁধিয়ে ফেলি কখনো,কেবল তার থেকে আদুরে বকুনি শুনবো বলে।
হাসতে ভুলে যাওয়া মানুষগুলিও আবার হাসতে শেখে।চোখদুটিই জানান দেয় ভেতরের খুশির খবর।
দেখা হলে শরীর ছোঁয়ার চাওয়া থাকে না,কেবল ভালোলাগার চাহনি থাকে,অনামিকা কনিষ্ঠায় আদুরে আলাপ থাকে।কিংবা কোনো একটা বিকেল,তার নামে লিখে দিতে ইচ্ছে করে।শুধু তার কথা শুনবো বলে,কাছ থেকে দেখবো বলে,এর বেশি আর কিছু চাওয়া থাকে না, চাহিদা থাকে না।
যোগাযোগ ছিন্ন হলেও কাদা ছেঁটায় না ওরা,থেকে যায় ওরা ডায়েরীর পাতার লুকোনো প্রথম প্রেমে পাওয়া শুকিয়ে যাওয়া অবিচ্ছেদ্য গোলাপের মতো।
সেই গোলাপে কোনো গন্ধ থাকে না,কিন্তু স্পর্শ করলে সেই আদুরে আলাপের দিনগুলো দৃষ্টিপটে ভেসে ওঠে,যা মনকেমনের দিনগুলোতে জড়িয়ে রাখে ভালোলাগার আবেশে,ঠিক মায়ের হাতে বোনা নকশিকাঁথার মতো।
কিছু সম্পর্ক শুরু হয়,কিন্তু নাম পায় না,সামাজিক পরিচিতি পায় না।তবুও অনামী হয়েও,ভীষণ দামী হয়ে রয়ে যায়।কী তাই না?
![]() |
| নন্দিনী সাহা |

No comments:
Post a Comment