প্রবন্ধ
সংস্কৃতির ইংরাজি হল ‘কালচার’ অর্থাৎ কর্ষণ বা কৃষ্টি। রামপ্রসাদের আক্ষেপ, “এমন মানব-জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা।” বাঙালির জীবন-জমিনে অবশ্য সোনার ফসলের অনুপপত্তি নেই। সে যে কোনও দিকেই হোক না কেন— অর্থাৎ ধর্ম, ইতিহাস, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, পালপার্বণ, শুভ উৎসব, যাত্রা-নাটক, চিত্রকলা, দর্শন, বিজ্ঞান, জীবনশৈলী, জীবনভাবনা, কিংবদন্তী, পুরাণ, পরিমণ্ডল-- সকল ক্ষেত্রেই।
সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালি প্রথমে ভারতীয়, তারপর হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, পারসিক ইত্যাদি। তারপর বাঙাল-ঘটী— তারও পর নাগরিক ও গ্রামীণ ইত্যাদি। প্রথমে বাহ্মণ্যধর্মের তেজোমহিমা, ক্ষীয়মাণ গৌরবের মধ্য থেকে উৎসারিত স্বার্থপরতা, নীচতা, ভেদাভেদ-জ্ঞান, পরধর্ম-অসহিষ্ণুতা। তারপর বৈষ্ণবধর্মের প্লাবনে বাঙালির আত্মনিমজ্জন— কবির কথায়, “বড় বৃষ্টি হয়ে গেছে ‘চৈতন্যের’ বাঙালি জমিতে, কর্দমে মেলে না পাদপীঠ”।
বাঙালির মানস-ভুবনে শাশ্বত ধর্মের মহাজ্ঞান, চিদানন্দময়ী শক্তির প্রকাশ, বৈষ্ণবীয় ভক্তিপেলবতা, ব্রাহ্মধর্মের ‘একামেবাদ্বিতীয়ম্’-এর অভ্রংভেদী ‘ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য’ মিলে মিশে এক হয়ে গেছে। তাই সেখানে ‘উদারচরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বকম্’। ফলস্বরূপ বাঙালি এক দিকে যেমন ‘বজ্রাদপি কঠোরাণি, মৃদুনি কুসুমাদপি’, তেমনই পৌত্তলিকতায় বিশ্বরূপদর্শী আবার অরূপরতনে স্বরূপপ্রিয়, তাই তারা অনায়াসে ‘প্রিয়রে দেবতা বানায়, দেবতারে প্রিয়’।
বাঙালির যেমন ঠাকুরমার ঝুলি, পঞ্চতন্ত্র, বর্ণপরিচয়, হাসিখুশি, বুড়ো-অ্যাংলা, ভূতপত্রীর দেশে, নালক, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণকথা, হযবরল, আবোল তাবোল, পাগলা দাশু আছে, ঠিক তেমনই আছে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, মধুসূদন, নজরুল, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ থেকে জীবনানন্দ, সমরেশদ্বয়, সুনীল, শীর্ষেন্দু, বিষ্ণু, শক্তি, নীরেন্দ্রনাথ, শঙ্খ প্রমুখ জীবনে জীবন যোগকারী প্রথিতযশা সাহিত্যকার। যেমন ডমরুচরিত, গোপালভাঁড়ীয় রসগল্প, রসময়ীর রসিকতা, ধূস্তরীমায়া, ভূশণ্ডির মাঠ, লালু, রসে বশে আছে, তেমনই আছে অব্যক্ত, লোটাকম্বল, দেবতাত্মা হিমালয়, কোথায় পাব তারে, সেই সময় ইত্যাদি। বাংলা সংস্কৃতির অঙ্গ বাংলা সাহিত্যের এই রসবৈচিত্র্য মনে করিয়ে দেয় ‘রসো বৈ সঃ’।
বাঙালি না হলেও কালিদাসকে বাঙালি আত্মীয়করণ করে নেয় তাঁর বাগ্দেবীর কাছে প্রার্থনা ‘অরসিকেষু রসস্য নিবেদনং শিরসি মা লিখ, মা লিখ, মা লিখ’ সহ। বিদ্যাসাগরের প্রাণবন্ত বাংলায় কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’-এর অংশবিশেষ অনুবাদে ‘শকুন্তলার পতিগৃহে যাত্রা’ হয়ে ওঠে বাঙালি নববধূর চিরকালীন পতিগৃহ গমনের উজ্জ্বল উদ্ধার দৃষ্টান্ত।
কাব্যের নৈবেদ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ যেমন দেবী সরস্বতীকে নন্দিত করেন, তেমনই নজরুল সঞ্চিতা, বিষের বাঁশি প্রভৃতি কাব্য দিয়ে অন্যায় অবিচার পরাধীনতার লৌহকপাট ভাঙতে চান, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দ স্বাচ্ছন্দ্যে বন্দনা করেন ছন্দসরস্বতীর। সুনীলের কাব্য-প্রেয়সী নীরা হয়ে যায় সর্বজনীন দয়িতা, জীবনানন্দের বনলতা সেনও রূপান্তরিত হয় হাজার বছর ধরে কামনা করা এক রহস্যময়ী নারীতে। বিষ্ণু দের ‘স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যত’ হয়ে ওঠে বাঙালির স্মৃতি, সত্তা ও ভবিষ্যৎ।
বাংলা সংস্কৃতির জীবনসরস্বতী হল বাংলা সঙ্গীত। যুগে যুগে সেই সঙ্গীত প্রবাহিনী বাঁক নিয়েছে নূতন থেকে নূতনতর দিকে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ভজন, টপ্পা, ধর্মসঙ্গীত, রামপ্রসাদী, কীর্তনাঙ্গের গান, রবিবাবুর গান, লোক সঙ্গীত, ভাটিয়ালি, জারি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, ঝুমুর, টুসু-ভাদুর গান, বাউল, দেহতত্ত্ব, আগমনী গান থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত, অতুলপ্রসাদী, দ্বিজেন্দ্রগীতি, স্বর্ণযুগের গান সহ আধুনিক গান থেকে বর্তমানের তথাকথিত জীবনমুখী গান মায় ব্যান্ডের গান বাঙালির মানস-মৃত্তিকাকে করেছে রসসিক্ত, নন্দিত।
তাই বাঙালি যেমন গাইতে পারে ‘আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে / বসন্তের বাতাসটুকুর মতো’, তেমনই পারে হৈমন্তিক নিবেদন ‘ওগো যা পেয়েছি, সেইটুকুতেই খুশি আমার মন, কেন একলা বসে হিসাব কষে নিজেরে আর কাঁদাই অকারণ’ বা মান্না দের মন-কেমন-করা গান ‘বড় একা লাগে, এই আঁধারে মেঘের খেলায়, আকাশ পারে’-তে গলা মেলাতে। কিংবা হাল আমলের অনুপম বিনতি ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ বা প্রতুলনীয় বঙ্গবন্দনা ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই, আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই’ হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের আরাম। বর্ষণমুখর রাতে বাঙালির আর্তপ্রকাশ দেখতে পাই ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’ বা ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে’ গানের আকুলতায়। তেমনই এমন কোনও জীবন-মুহূর্ত নেই, যেখানে সপ্রাণ অনুভূতি প্রকাশের জন্য বাঙালির কাছে কোনও ‘গীতাঞ্জলি’ নেই।
কথায় বলে ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ’— যেখানে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী, দুর্গা-কালী-সরস্বতী-কার্তিক-
পূর্বজদের জন্য বাঙালি আকাশ-প্রদীপ জ্বালে, নবাগতদের মঙ্গলে করে ষেঠেরা (ষষ্ঠী) পূজার মঙ্গলাচরণ। বঙ্গবধূ অশুভ দৃষ্টি থেকে শিশুকে রক্ষা করতে তার পাশ কপালে লাগায় কাজলের ফোঁটা। বঙ্গনারী দেবীকে ঘরের মেয়ে বলেই মান্যতা দেয়। ফলে বিসর্জনে মা হিসাবে কনকাঞ্জলি গ্রহণ করে, নিজেরা পরস্পরের মঙ্গলকামনায় সিঁদূরখেলায় মাতে। শাশুড়ি মা জামাই ষষ্ঠীতে জামাই আদরের সঙ্গে পাখার বাতাস দিয়ে তার বিপদ-বালাই দূর করে, বোনেরা ভাতৃদ্বিতীয়ায় ভাইফোঁটা দিয়ে যম-দুয়ারে কাঁটা বিছায় অপি চ বাঙালি থেকে ভারতীয়ত্বে উত্তরণের ফলে ভাইয়ের হাতে রাখিও পরায়, ইতু (ইন্দ্র) পূজার মাধ্যমে বাঙালি শস্যপূর্ণা বসুন্ধরার স্বপ্ন দেখে, ঘেঁটু (ঘণ্টাকর্ণ) পূজার মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিদের রোগবালাই দূর করার অভিলাষ করে।
বাঙালি হিন্দু সত্যপীরের দরগায় সিন্নি-বাতাসা চড়ায় মনস্কামনা পূর্ণ হলে, সংসারের মঙ্গলকামনায় সত্যনারায়ণ পূজার আয়োজন করে। বিপরীতে কোনও বাঙালি মুসলমান রমণী সীমন্তে সিঁদূর ধারণ করে স্বামীর হিতকামনায়। সত্যিই বড় বিচিত্র এই বাংলার সংস্কৃতি!
আর চিত্রকলায়? রবি বর্মার শিব-পার্বতী বিষয়ক চিত্রকলাকে বাঙালি আত্মীয়করণ করেছে, বাঙালির প্রতিভূ উদয়শঙ্কর নৃত্যের অঙ্গনে সম্প্রতি-প্রয়াতা জোহরা সেহগলের সাহচর্যে সেই শিব-পার্বতীকে রূপদানের মাধ্যমে অবিনশ্বর করেছেন। ‘ছবিলেখক’ অবনীন্দ্রনাথের ‘ভারতমাতা’ চিত্র, রবীন্দ্রনাথের বিমূর্তধর্মী নারী অবয়ব, নিসর্গ চিত্র, গগনেন্দ্রনাথের ঘনকীয় চিত্র, সমাজে প্রচলিত অন্যায়-কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কশাঘাতকারী ব্যঙ্গচিত্র, যামিনী রায়ের অতিসরল জননী প্রতিকৃতি (যা দেখলেই ‘মা বলিতে প্রাণ করে আন চান, চোখে আসে জল ভরে), নন্দলাল বসুর স্বল্পরৈখিক মানব তথা নিসর্গ চিত্র থেকে বিকাশ ভট্টাচার্যের মানবীর মধ্য দেবীসন্ধান, ধাবমান অশ্বের বিচিত্র ভঙ্গিমা, গণেশ পাইনের লোকায়ত ভাবের ঐশ্বরীয় মহিমায় উত্তরণশীল চিত্রায়ণ, তাঁর ‘পোয়েটিক স্যুর-রিয়েলিজম’ বাংলার সংস্কৃতিকে একই সঙ্গে ঋদ্ধ ও ধারণ করেছে। এছাড়া কালীঘাটের পট, পুরাণ-রামায়ণ-মহাভারত-সাম্প্রতি
চলচিত্রের মৌন, মুখর দু’টি যুগেই বাঙালির অবদান আজ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী(ডি. জি.) থেকে সত্যজিৎ রায় দীর্ঘপটে জীবনের বিচিত্র প্রকাশে চলচ্চিত্রের অভিধাই বদলে দিয়েছেন। সে পথের পাঁচালি হোক বা পরশপাথর, তার পরশে বাঙালির মননভূমি ‘কষিত কনককান্তি, কমনীয় কায়’। ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারায় মৃত্যুপথযাত্রিণী নারীর আকুল আর্তনাদ “দাদা আমি বাঁচতে চাই, দাদা আমি বাঁচতে চাই’’ চিরকালীন জীবনতৃষ্ণায় পরিণত। কিংবা তাঁর ‘যুক্তি, তক্কো, গল্প’-এ ‘কেন চেয়ে আছো গো মা মুখপানে’-তে বিশ্বাস ও স্বপ্নভঙ্গের যে বিশ্বাস্য চিত্রকল্প দেখি, তা বাঙালির হৃদয়বীণায় চিরকাল বিষণ্ণ ভৈরবী রাগিনী অনুরণিত করতে থাকবে।
পরিধানে বাঙালিকে বিশিষ্ট করেছে ধুতি, পাঞ্জাবি, শাড়ি, ইত্যাদি। কিন্তু কর্মস্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বপ্রবণতার প্রয়োজনে বাঙালি প্যান্ট-শার্ট-সালোয়ার-কামিজ-লে
আবার খেলার মাঠে বাঙালিই পারে তার ঊর্ধ্ববাস খুলে তারুণ্যের বিজয়কেতন ওড়াতে। কারণ সেই ঔপনিষদ মন্ত্র তার মনে সাহস জোগায় ‘অপাবৃণু! অপাবৃণু!!’ (আবরণ উন্মোচন করো। আবরণ উন্মোচন করো।) ‘আত্মানং বিদ্ধি’ (আত্মস্বরূপকে উপলব্ধি কর, আর অনুভব ও ঘোষণা কর যে যে তোমরাও অমৃতস্য পুত্রাঃ)।
বসনের মত অশনেও বাঙালির স্বকীয়তা অনস্বীকার্য। সঘৃত অন্নব্যঞ্জন, যার মধ্যে সুক্তো-ডাল-পোস্ত-শাক-কালিয়া-
প্রকৃতপক্ষে বাংলার সংস্কৃতিতে মহামিলনের বীজ উপ্ত দেখতে পাই। কবি রবীন্দ্রের অনুভব ‘হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি/ জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি’। সমান্তরালভাবে ভারত পথিক রামমোহন, বিশ্ববিবেক বিবেকানন্দের হাত ধরেও বাঙালিও তাই বিশ্বমানবতা তথা বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধে অনুপ্রাণিত।
তাই বাংলার সংস্কৃতি বলতেই জীবনের চলার পথে প্রয়োজনীয় কতকগুলি মূল্যবোধের কথা মনে পড়ে যায়। গুরুজন ও অগ্রজদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্ভ্রম (পিতৃদেবো ভব, মাতৃদেবো ভব বিধায়), অনুজদের প্রতি সস্নেহ প্রশ্রয়, দীনার্তদের অভয়াশ্রয়, আগামী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ বা ‘প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার’), সমবয়স্কদের প্রতি বিনম্র ব্যবহার, সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা, অল্পেতে তুষ্ট থাকা (সন্তোষম্ ওষধিঃ), বিদ্যোৎসাহ (নাস্তি বিদ্যা সমা শক্তিঃ), বিনম্রীভাব, অপরের প্রতি দ্বেষহীনতা (মা বিদ্বিষামহে), আপন ধর্ম বা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও পরধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল থেকেও প্রতিবেশীদের প্রতি মমত্ববোধ, মানুষকে দেবাংশী জ্ঞানে সেবা, পরবাসে গিয়েও নিজ শিকড়ের প্রতি নাড়ির টান ইত্যাদি।
রবীন্দ্রনাথ দেশকে ‘ভারততীর্থ’ অভিধা দিয়েছেন। বাংলা সেই তীর্থের মধ্য আর এক তীর্থ, এক অন্য কবির ভাষায় ‘আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থ বরদ বঙ্গে’। হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাঙালি প্রাণের জোরে বেঁচে আছে, তাই ছন্দের জাদুকর কবি সগর্বে বলেছেন, ‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি’। আবার এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রাণোচ্ছলতা দেখে গুপ্ত কবি বলেছেন, ‘কত ভঙ্গ বঙ্গদেশ, তবু রঙ্গে ভরা’। এই প্রতিকূলতার মাঝেও তাই আত্মসন্ধানী বাঙালি নিজেকেই বারবার প্রশ্ন করে কবি শক্তির বকলমে ‘অবনী, বাড়ি আছো?’ যতদিন বাংলা থাকবে, বাংলার সংস্কৃতি থাকবে, বাঙালি থাকবে, ততদিন এই আত্মজিজ্ঞাসা চলতেই থাকবে, ‘অবনী, বাড়ি আছো?’ ‘অবনী, বাড়ি আছো? ‘অবনী, বাড়ি আছো?... ...

No comments:
Post a Comment